
এস.এম.শামীম, দিঘলিয়া:
তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টায় দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার বিশ্বাস-এর সভাপতিত্বে এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রাজিব কুমার রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশগুপ্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাওন রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টি এম শাহ আলম, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক।
সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত পরিবার গঠন, মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জনসংখ্যাগত সুবিধা (Demographic Dividend) কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রাজীব খান ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয় এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠন ও তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গত এক বছরের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কে সনদপত্র এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এবছর যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী- মনিরা খাতুন, শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক- জিএম রেজাউল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা- হামিদা খাতুন, শ্রেষ্ঠ উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার- মোঃ মোরশেদ আলম, শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র- দিঘলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ- দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, শ্রেষ্ঠ এনজিও (সিবিডি ভিত্তিক)- অ্যাডামস কেসিসি, শ্রেষ্ঠ এনজিও (ক্লিনিক ভিত্তিক)- অ্যাডামস কেসিসি।।