
খুলনা প্রতিনিধি,
খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় এনসিপি পরিচয়ধারী কয়েক জনের বিরুদ্ধে বাসায় জোর পূর্বক প্রবেশের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, নারীকে হেনস্তা ও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে । গত ২৬ জুন বিকেলে নিরালার প্রান্তিকায় ৪ নং রোডের ২৩ নং বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার জানান, আমার স্বামী আরিফ মুন্সি প্যারালাইসিস রোগী সে অসুস্থতার কারণে সব সময় বাসায় থাকে ও ঘটনার সময় সে বাসায় ছিলেন। সে সময় বেড়াতে এসেছিলেন আমার ফুফাতো ভাই, তার স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তান।
হঠাৎ কয়েক জন ব্যক্তি নিজেদের এনসিপির সদস্য দাবি করে বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে। তারা অভিযোগ তোলে, বাসায় সাবেক সরকারের এক “দোসর” লুকিয়ে আছে। তানিয়া তা অস্বীকার করে বলেন, তারা বিএনপির পরিবার এবং বাসায় বহিরাগত কেউ নেই। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে বৈধভাবে তল্লাশির অনুরোধ জানান।
এমসিপি পরিচয় দানকারী ব্যক্তিরা তানিয়ার কথায়, কর্ণপাত না করে, প্রশাসনের লোক সঙ্গে আছে” বলে ফ্ল্যাটে ঢোকার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তানিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তাকে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন।
একপর্যায়ে তারা লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে অসামাজিক কাজে জড়িত বলে অপপ্রচারের হুমকি দেয়। তানিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন ঘরে অসুস্থ স্বামী আত্মীয়-স্বজন ও শিশু থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ধস্তাধস্তির সময় আরিফ মুন্সি “ডাকাত” বলে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তখন অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তানিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার করছে। এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযুক্তদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তানিয়া আক্তার প্রশাসনের কাছে দাবি জানিযে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উদঘাটন, অপপ্রচার কারীদের শনাক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।