1. admin@banglarchetona.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিঘলিয়ার হাজীগ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দিনাজপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৩৩ হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপসহ গ্রেফতার ৩ জন। মাচায় পোল্লার বাম্পার ফলন: ডুমুরিয়ার শাহিনুরের সাফল্যে কৃষকদের মাঝে নতুন আশা *সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫৯৪ বোতল উইনকেরেক্সসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ সিপিসি-১সাতক্ষীরা* দিঘলিয়ায় শিক্ষাথীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খুলনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হরিভদ্রা নদী খননেও মিলছে না সুফল: ডুমুরিয়ায় পলি অপসারণের দাবিতে ইউএনও-র কাছে গণআবেদন র‍্যাব-৬,যশোর শার্শায় পৃথক ২ অভিযানে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ফুলবাড়ীতে ছিনতাইয়কারীর ছুরির আঘাতে চালক নিহত;গাড়িসহ ঘাতক ছিনতাইকারী আটক ১ “বাংলাদেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে”

তিলকে তাল বানিয়ে দিনমজুর বাবাকে জেলহাজতে পাঠালো মা-মেয়ে ও স্থানীয় মেম্বার, বামনায় সাজানো মামলার নেপথ্যে চরম পারিবারিক প্রতিহিংসা

বাংলার চেতনা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি, বামনা (বরগুনা): বরগুনার বামনা উপজেলায় এক অসহায় দিনমজুর বাবাকে নিজের কন্যা সন্তানকে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার উত্তর কাকচিড়া ৩নং ওয়ার্ড নবগ্রামের বাসিন্দা মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মিরাজ খাঁকে (৩৮) পুলিশ গ্রেফতার করলেও, স্থানীয়দের দাবি—এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক এবং পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত চক্রান্ত।সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী মিরাজ খাঁ এলাকায় একজন অত্যন্ত সৎ, শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত দরিদ্র এই দিনমজুরের নিজের থাকার মতো কোনো জমি নেই। দীর্ঘদিন ধরে জসিম সিকদার নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত জমিতে একটি ছাপড়া ঘর তুলে মা, স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছেন। গত ৪ জুন মিরাজ খাঁকে তার বাড়ি থেকে বামনা থানা পুলিশ গ্রেফতার করার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত মিরাজ খাঁর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মিতু আক্তারের একটি প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। মিতু উত্তর কাকচিড়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সহপাঠীর মাধ্যমে স্থানীয় এক যুবকের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে সে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। বিষয়টি বাবা মিরাজ খাঁ জানতে পারলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে শাসন করেন এবং সাম্যয়িকভাবে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাসখানেক পূর্বে মিতু ওই কথিত প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। দুদিন পর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হলেও মান-সম্মানের ভয়ে মিরাজ খাঁ বিষয়টি প্রশাসন বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাননি। তবে তিনি মেয়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন, যা নিয়ে মা ও মেয়ের সাথে তার প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।মিরাজ খাঁকে গ্রেফতারের পর স্থানীয় একটি অনলাইন পেইজে দুটি পরস্পরবিরোধী ভিডিও প্রকাশিত হয়। একটি ভিডিওতে ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) রেজাউল ধলাইকে দাবি করতে দেখা যায়, বাবা তার মেয়েকে ৭/৮ বার ধর্ষণ করেছে। অথচ অপর একটি ভিডিওতে মেয়ে মিতু আক্তার নিজেই বলছে যে, তার বাবা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। এই বৈপরীত্য এবং মিতুর প্রেমঘটিত বিষয় গোপন করার চেষ্টা থেকেই স্পষ্ট হয় যে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো।পারিবারিক এই অশান্তির সুযোগ নেন স্থানীয় মেম্বার রেজাউল ধলাই। মিরাজের স্ত্রী আখি ওরফে তাজেনূর সর্বপ্রথম মেম্বারের স্ত্রীর কাছে তাদের পারিবারিক কলহের কথা জানান। এরপর রেজাউল ধলাই ও তার স্ত্রী মিলে আখিকে কুপরামর্শ দেওয়া শুরু করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেজাউল ধলাই পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে এনে মা-মেয়েকে দিয়ে সাজানো জবানবন্দি দেওয়ান।এই গভীর চক্রান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আক্রোশ কাজ করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মিরাজ খাঁ গত আট বছর ধরে প্রবাসী এমাদুল ধলাই ও মেম্বার রেজাউল ধলাই—এই দুই ভাইয়ের গরুর খামারে কাজ করতেন। দুই বছর পূর্বে দুই ভাইয়ের খামার ভাগ হয়ে গেলে মিরাজ সততার কারণে প্রবাসী এমাদুল ধলাইয়ের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল ধলাই মিরাজকে তার খামারে কাজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও মিরাজ তা প্রত্যাখ্যান করেন।এরই মধ্যে পাঁচ মাস পূর্বে এমাদুল ধলাইয়ের স্ত্রীর সাথে একটি তুচ্ছ বিষয়ে মিরাজের বাকবিতণ্ডা হলে মিরাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। ওই সময় রেজাউল ধলাই মিরাজ এবং তার ভাই এমাদুলের স্ত্রীকে মারধর করেন। বিষয়টি থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে বরগুনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে এমাদুলের স্ত্রী ও রেজাউল ধলাইয়ের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে গেলেও মিরাজের ওপর চরম ক্ষোভ রয়ে যায় মেম্বার রেজাউলের। সেই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই মেম্বার রেজাউল ধলাই এই পারিবারিক বিরোধকে ‘ধর্ষণ চেষ্টা’র মতো জঘন্য অপরাধের রূপ দিয়ে মিরাজকে জেলে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে মামলার পর বামনা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। বামনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খানের বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মিরাজকে গ্রেফতারের পর প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানা থেকে দ্বিতীয়বার কোনো পুলিশ সদস্য অধিকতর তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে বা এলাকাবাসীর কাছে যাননি। অথচ ওসি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মিরাজকে জামিন দিলে তার জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। পুলিশের এমন একপেশে ভূমিকা এবং জামিন ঠেকানোর তৎপরতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বর্তমানে চরম অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের শিকার দিনমজুর মিরাজ খাঁর মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে উত্তর কাকচিড়া নবগ্রামের সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী মেম্বার রেজাউল ধলাইসহ মিথ্যা মামলা দায়েরকারী মা-মেয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলার চেতনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park