1. admin@banglarchetona.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিঘলিয়ার হাজীগ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দিনাজপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৩৩ হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপসহ গ্রেফতার ৩ জন। মাচায় পোল্লার বাম্পার ফলন: ডুমুরিয়ার শাহিনুরের সাফল্যে কৃষকদের মাঝে নতুন আশা *সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫৯৪ বোতল উইনকেরেক্সসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ সিপিসি-১সাতক্ষীরা* দিঘলিয়ায় শিক্ষাথীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খুলনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হরিভদ্রা নদী খননেও মিলছে না সুফল: ডুমুরিয়ায় পলি অপসারণের দাবিতে ইউএনও-র কাছে গণআবেদন র‍্যাব-৬,যশোর শার্শায় পৃথক ২ অভিযানে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ফুলবাড়ীতে ছিনতাইয়কারীর ছুরির আঘাতে চালক নিহত;গাড়িসহ ঘাতক ছিনতাইকারী আটক ১ “বাংলাদেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে”

নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ

বাংলার চেতনা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক ঃ

ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৬: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটে’-এ আজ মঙ্গলবার (১৬-০৬-২০২৬) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (বিওআরআই)-এর জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল’ এবং জাহাজটির মুরিং সহায়তার জন্য সেলফ-সাসটেইন্ড পন্টুনের কিল-লেয়িং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ফকির মাহবুব আনাম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিওআরআই, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং খুলনা শিপইয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই) এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (DPM) আওতায় একটি নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ০২টি হাইস্পিড কেবিন বোট এবং ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করবে খুশিলি। কিল লেয়িং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান Keel Marine Ltd-এর কারিগরি সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি Bureau Veritas (BV)-এর তত্ত্বাবধানে এ গবেষণা জাহাজটি নির্মিত হবে। ৩২ মিটার দৈর্ঘ্য, ০৮ মিটার প্রস্থ এবং ০৪ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট এ জাহাজটি ঘণ্টায় ১৪ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। ২৫০ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এ প্ল্যাটফর্মটিতে Multi Beam Echo Sounder (MBES) ও Single Beam Echo Sounder (SBES) সংযোজিত থাকবে, যা সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ণ এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে। এছড়াও, জাহাজটিতে সংযোজিত Vibro Corer, Box Corer ও Acoustic Doppler Current Profiler (ADCP) সমুদ্রতলের মাটির নমুনা সংগ্রহ এবং সমুদ্রস্রোত পরিমাপে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বায়োলজিক্যাল, কেমিক্যাল এবং এনভায়রনমেন্টাল ওশানোগ্রাফি গবেষণার জন্য ল্যাব সুবিধা এবং বিভিন্ন Scientific Survey ও Research Equipment’s সংযুক্ত থাকবে বিধায় সমুদ্র গবেষণা ও হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে জাহাজটির নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

খুশিলি এর নিজস্ব ডিজাইন ও ইনল্যান্ড শিপিং বিধিমালা অনুযায়ী ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্য, ১০ মিটার প্রস্থ এবং ২.৪০ মিটার গভীরতার একটি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন নির্মাণ করা হবে। ৩৯০ টন ডিসপ্লেসমেন্ট বিশিষ্ট পন্টুনটি রিসার্চ ভেসেল ও স্পিডবোটের মুরিং, জ্বালানি ও খাবার পানি সরবরাহ এবং গবেষক দল ও কর্মীদের সার্বিক আবাসন ও লজিস্টিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। নৌবাহিনীর পরিচালনায় দেশের বৃহত্তম ও অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত এ শিপইয়ার্ডটি দক্ষ প্রকৌশলী ও অভিজ্ঞ জনবলের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ৮০০টিরও বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং আড়াই হাজারের অধিক জাহাজ মেরামত করেছে। যুদ্ধজাহাজ, পেট্রোল ভেসেল, ড্রেজার, সার্ভে ভেসেল, ফেরি ও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক জলযান নির্মাণে শিপইয়ার্ডটির রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আন্তর্জাতিক ডিজাইন ও শ্রেণিবিন্যাস মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতায় এ ধরনের অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ নির্মাণ বাংলাদেশের নৌ-শিল্পের প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সমুদ্র অর্থনীতি ও দেশের সামুদ্রিক গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যায়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলার চেতনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park