
(মোঃ সোহেল রানা, ক্রাইম রিপোর্টার,)
আসন্ন ২নং বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তেরখাদা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক, বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মোল্লা হুমায়ুন কবির। তার ঘোষণার পর থেকেই বারাসাত ইউনিয়নজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা আর নতুন স্বপ্নের ঢেউ।
*সেবাই ধর্ম, জনগণই শক্তি*
“আমি নেতা হতে আসিনি, আপনাদের খাদেম হতে এসেছি” – সভা-সমাবেশে বারবার এই কথাটিই বলছেন হুমায়ুন কবির। ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা এই রাজনীতিবিদ এখন চান বারাসাতের ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।তার স্পষ্ট বক্তব্য: জনপ্রতিনিধি মানে জনগণের চাকর। জনগণের টাকা জনগণের উন্নয়নেই খরচ হবে। স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতাই হবে তার রাজনীতির মূল ভিত্তি।*মডেল বারাসাত গড়ার ৫ দফা ইশতেহার*বারাসাতকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে মোল্লা হুমায়ুন কবির ৫টি মূল অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন:
*১. উন্নয়নের মহাসড়ক*
ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পাকা রাস্তা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তির দিন শেষ করতে চান তিনি।
*২. সবার জন্য সুস্বাস্থ্য*
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হবে। গরীব ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ওষুধ সরবরাহ তার অন্যতম লক্ষ্য।
*৩. শিক্ষায় আলোকিত বারাসাত*
দরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে।
*৪. যুবসমাজের ক্ষমতায়ন*
বেকার যুবকদের কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা হবে। হারিয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধার করে যুবসমাজকে মাদকের পথ থেকে ফেরানো হবে।
*৫. শান্তি ও সম্প্রীতির বারাসাত*
মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে।*জনতার মুখে হুমায়ুন কবির*মাঠপর্যায়ে ঘুরে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ছিল অভিভূত করার মতো। বারাসাত বাজারের চা-দোকানি আব্দুল মজিদ বলেন, “হুমায়ুন ছেলেটা বিপদে-আপদে সবার আগে ছুটে আসে। চেয়ারে বসলে গরীবের কথা ভুলবে না।”বারাসাত কলেজের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, “ভাইয়া সবসময় আমাদের খেলার মাঠ আর পাঠাগারের কথা বলে। এমন জনবান্ধব নেতাই তো আমরা চাই।”নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও মোল্লা হুমায়ুন কবিরের কর্মী-সমর্থকরা বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের একটাই স্লোগান – “এবার বারাসাতের ভাগ্য বদলাবেই, ইনশাআল্লাহ।”
*শেষ কথা*
বারাসাত ইউনিয়নের ৩০ হাজার ভোটারের ভাগ্য এবার কোন দিকে মোড় নেবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে মোল্লা হুমায়ুন কবিরের সততা, সাহস আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাকে ইতোমধ্যেই বারাসাতবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। উন্নয়নের নতুন সূর্য নিয়ে তিনি আসছেন – বারাসাত বদলানোর প্রত্যয় নিয়ে।।