
মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা থেকে।
যশোরের চাঞ্চল্যকর পিতার সামনে পূত্রকে (শহিদুল ইসলামকে) হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আলিফ (১৯)’কে মাগুরার শিমুলিয়া এলাকা হতে মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। র্যাব ফোর্সেস নিয়মিত মামলার আসামিসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভূক্ত আসামিদের গ্রেফতার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি গ্রেফতার এবং বিভিন্ন
চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনয়নের ক্ষেত্রে র্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১.৪০ ঘটিকায় র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মাগুরা জেলার মাগুরা সদর থানাধীন শিমুলিয়া এলাকায় যশোরের চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক ভিকটিম
শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আলিফ (১৯), পিতা- জাহাঙ্গীর হোসেন, সাং- পাগলাদাহ মাঠপাড়া, থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা- যশোর আত্মগোপনে আছে। উক্ত তথ্য পেয়ে র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর এবং র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রীস্টাব্দ রাত ০১.০০ ঘটিকায় উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী আলিফ (১৯)’কে গ্রেফতার করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪০) পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক। ভিকটিম শহিদুল তার বোনের অটোরিক্সা ভাড়ায় চালাতো। ভিকটিম সহ আসামী মিরাজও মাঝেমধ্যে উক্ত অটোরিক্সাটি ভাড়ায় চালাতো। ভিকটিমের বোন বিধবা হওয়ায় আসামী মিরাজ বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব সহ অশ্লীল কথাবার্তা বলতো।
এসব কারণে আসামী মিরাজকে ভিকটিম এবং তার বোন আর অটোরিক্সা চালাতে দিতো না। এছাড়াও ভিকটিমের বোনকে কুপ্রস্তাব সহ অশ্লীল কথাবার্তা বলার কারণে ভিকটম এবং আসামী মিরাজের মাঝে কথাকাটাকাটি হয়, সে সময় আসামী মিরাজ ভিকটিমকে খুন জখমের হুমকি প্রদান করে। এরই সূত্র ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ইং ১৩/১২/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকার সময় যশোরের পাগলাদাহ মাঠপাঠপাড়া
এলাকার রাস্তার উপর ভিকটিম অটোরিক্সা নিয়ে পৌছালে গ্রেফতারকৃত আসামী আলিফ (১৯) ও অন্যান্য আসামীরা মিলে ভিকটিমকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
উক্ত বিষয়ে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তরা নিজেদের আত্মগোপন করে।গ্রেফতারকৃত আসামী আলিফ (১৯) এর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।