
নিজস্ব প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়াঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পপুলার জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে উঠেছে আকাশচুম্বী অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম শর্ত পূরণ না করেই দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের চিকিৎসা বাণিজ্য।
সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো আবাসিক চিকিৎসক (RMO) বা রেজিস্টার্ড ডিপ্লোমা নার্স নেই। নামমাত্র হাসপাতালটিতে কোনো দক্ষ জনবল ছাড়াই ভর্তি করা হচ্ছে রোগী। এমনকি জটিল অপারেশন ও সিজারের মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসা সেবাগুলো দেওয়া হচ্ছে বাইরের চিকিৎসক এনে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হাসপাতাল পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ যেসকল বৈধ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক, তার একটিও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। নথিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। উত্তেজিত কণ্ঠে তারা জানান, “কাগজপত্র সিভিল সার্জন দেখবেন, আপনাদের দেখানোর বিষয় নয়।” তবে এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, বর্তমানে তাদের কাছে বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই ক্লিনিকে চলছে ভর্তি বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা হাসপাতালটির নেই। অথচ সিজারের মতো অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
হাসপাতালটির এমন বেপরোয়া কার্যক্রমে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে প্রতারিত করার এই সুযোগ কীভাবে মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।।