
মোঃ আশরাফুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার
দিনাজপুর পিবিআই এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ। আজ ১০ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১ টায় পিবিআইয়ের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন
গত ২২.৯.২০২৫ তারিখে সকালে দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন ৯ নং বিজোড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামস্থ দিনাজপুর হতে পঞ্চগড় গামী রেললাইনে ধারে ময়না বেগম এর লাশ পাওয়া গেলে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয় এ লাশের সংবাদ পেয়ে পিবিআই দিনাজপুর ক্রাইসিস টিম ও রেলওয়ে থানা পুলিশসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ময়না বেগমের জখম, গলায় পেঁচানো লাইনের দড়ি যা লাইনের স্পিলারের সঙ্গে বাধা সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পিবিআই দিনাজপুর ক্রাইমসিন টিমের নিকট এ ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড মনে হলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে ।
অপমৃত্যুর মামলা হলেও পিবিআই দিনাজপুর জেলার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজামান আশরাফ এর নির্দেশনায় এসআই মোঃ নাজিমুল ইসলাম এর নেতৃত্বে কয়েকজন চৌকস সাব ইন্সপেক্টর সমন্বয়ে উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখেন। তদন্তের একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হন যে ময়না বেগমকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়না বেগমের পিতা লাল মিয়া( ৭৪) গত ২ নভেম্বরে রেলওয়ে থানায় তার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলামসহ আরো দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন । মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে পিবিআই তদন্তকারী অফিসার মোঃ নাজিমুল ইসলাম এজাহারে উল্লিখিত তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আসামি জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রী ময়না বেগমকে বিদ্যুৎ বিলের জন্য ২,০০০ টাকা সংগ্রহ করতে বলেন টাকা সংগ্রহ না করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এরপরে আসামির ভায়রা ভাই আব্দুস সালাম ও চাচাতো ভাই রুবেলসহ পরিকল্পিতভাবে ময়না বেগমকে রেল লাইনে নিয়ে গিয়ে গলায় দড়ি পেচিয়ে রাত আনুমানিক দশটার দিকে হত্যা করে লাশ গোপন করার চেষ্টা করেন এবং সময়মতো রেল লাইনের স্পিনারে সঙ্গে বেঁধে রাখেন যাতে সকলে মনে করে সে আত্মহত্যা করেছে। পিবিআই এর সূক্ষ্ম তদন্তে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেন
আজ ১০ ডিসেম্বর প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই।।