
এস.এম.শামীম,দিঘলিয়া।
‘মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষক, শিক্ষা ও নৈতিকতা গঠনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম’
মা হচ্ছেন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধিকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেনহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “মা সমাবেশ–২০২৬”।বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান মল্লিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, “একটি শিশুর চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয় মায়ের হাত ধরেই। তাই সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার এবং বিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।”বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক এম. সিদ্দিক-উজ-জামান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাকসুদা খানম, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী মিন্টু এবং অভিভাবক সদস্য সৈয়দ রাশেদুজ্জামান।অনুষ্ঠানে মায়েদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ফারজানা ইয়াসমিন রূবা। তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে মায়েদের দায়িত্ব ও ত্যাগের বিষয় তুলে ধরে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার ও বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্নেহময়ী মায়েদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সমাবেশটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বক্তারা বলেন, মা, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।অনুষ্ঠানের এক গৌরবোজ্জ্বল পর্বে এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থী নাঈমা হাসান তন্দ্রা ও জান্নাতুল ফেরদৌস জয়ীতার মায়েদের ‘গর্বিত মা সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি নিজ হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। মা সমাবেশ–২০২৬ স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে একটি শিউলি ও একটি জবা ফুলের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী মায়েরা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পরিবার ও বিদ্যালয়ের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।।