
মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা থেকে,
জুলাই ২৪-এ আন্দোলনের উত্তাল দিনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্যামেরা, মোবাইল, সবকিছু হারিয়ে প্রাণে ফিরে এলেও—আবারও গত এক মাসেরও বেশি সময় ভাঙা পা নিয়ে বিছানায় লড়াই করছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম শাহীন। তিনি দুর্নীতি রিপোর্ট২৪ ডট কমের প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি একের পর এক হামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্মমতার শিকার হয়েছেন।
জুলাই ২৪এর আন্দোলনের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে উত্তরা পূর্ব থানার পিছনে পৌঁছানো মাত্রই আওয়ামী লীগ–সমর্থিত সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার মুখে পড়েন তিনি। ক্যামেরা, মোবাইল, ব্যাগ—সব ছিনিয়ে নেওয়া হয়, এমনকি তাকে নির্মমভাবে মারধর করে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে যায়। রাতভর কোথাও কোনো সহায়তা পাননি, বাঁচার চেষ্টা একাই করতে হয়েছে।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও একইভাবে ঝুঁকি নিয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর–এর সঙ্গে একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে মাঠে ছিলেন। তখনও নবাব হাবিবুল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সরকারদলীয় লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানি করে“কেন জাহাঙ্গীরের পিছনে কাজ করছো? কেন বিএনপির হয়ে কভারেজ দিচ্ছো?”
তবুও থেমে যাননি তিনি। সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও মানুষের কথা বলার প্রতিশ্রুতিতে অনড় ছিলেন শাহীন। এরপর আসে জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন—১৯ জুলাই। উত্তরা আজমপুর রেলগেটের পাশে তাকে ধরে আবারও হামলা করে আওয়ামী লীগের চাকর—সমর্থকেরা। নির্দয়ভাবে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়, ক্যামেরা–মোবাইল ছিনিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়। আহত অবস্থায় কোনোমতে প্রাণে বেঁচে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।
৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তিনি আবার রাস্তায় বেরিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে আরও বড় এক পরীক্ষায় ফেললো।সিভিল এভিয়েশন এর হেডকোয়ার্টারের সামনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হঠাৎ একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ধাক্কায় দেয়,পরে তিনি সড়কে ছিটকে পড়লে ডান পা ভেঙে মারাত্মকভাবে আহত হন।
এখনও বিছানায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। সাংবাদিকতা, সত্য প্রকাশ এবং মানুষের পক্ষে লড়ার মূল্য তিনি দিচ্ছেন শরীরের প্রতিটি ব্যথায়।।