
মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা থেকে,
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ৩ মে ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। চলতি মৌসুমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৬৫ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। অফিস সুত্রে জানাগেছে,ইতিমধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৪৮%।
জেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খুলনা জেলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক বনী আমিন বলেন,
চলতি বছরে আমাদের লক্ষ্য মাত্রা ৭ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন ধান ও ১৯ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন চাল,বাগেরহাট ডিসি ফুড দেলওয়ার হোসেন জানান,তার লক্ষ্য মাত্রা ৭ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন ধান ও ৯ হাজার ৩৯৭ মেট্রিক টন চাল, সাতক্ষীরায় ৮ হাজার ২৫ মেট্রিক টন ধান ও ১৯ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন চাল, যশোরের ডিসি ফুড মোঃ শেফাউর রহমান জানান, তার লক্ষ্য মাত্রা ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন ধান ও ৩৩ হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন চাল, ঝিনাইদহে ৯ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন ধান ও ১৬ হাজার ১৬৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।মাগুরায় ৪ হাজার ১২২ মেট্রিক টন ধান ও ৫ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন চাল, নড়াইল ডিসি ফুড লায়লা আফরোজ বলেন,তার লক্ষ্য মাত্রা ৫ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন ধান ও ৫ হাজার ১২ মেট্রিক টন চাল, কুষ্টিয়ার ডিসি ফুড মোঃ অজিয়ার রহমান বলেন চলতি বছরে ৩ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন ধান ও ৩৭ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন চাল, চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন ধান ও ৯ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন চাল এবং মেহেরপুরের ডিসি ফুড হাসনা হেনা বলেন,তার লক্ষ্য মাত্রা ১ হাজার ৮৯২ মেট্রিক টন ধান ও ২ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকার ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা এবং চালের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৪৯ টাকা।সংশ্লিষ্ট জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ( ডিসি ফুড) জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ধান ও চাল সংগ্রহের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সকল উপজেলার গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে উন্নতমানের ধান সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে বৈধ মিলারদের কাছ থেকে মানসম্মত চাল সংগ্রহ করছেন।খুলনায় সদ্য যোগদানকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন,আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। স্বচ্ছতার সঙ্গে সংগ্রহের বিষয়ে জেলা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছি। তিনি জানান,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুদাম কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করবেন। তিনি আরও বলেন,চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।