1. admin@banglarchetona.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিঘলিয়ার হাজীগ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দিনাজপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৩৩ হাজার বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপসহ গ্রেফতার ৩ জন। মাচায় পোল্লার বাম্পার ফলন: ডুমুরিয়ার শাহিনুরের সাফল্যে কৃষকদের মাঝে নতুন আশা *সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫৯৪ বোতল উইনকেরেক্সসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ সিপিসি-১সাতক্ষীরা* দিঘলিয়ায় শিক্ষাথীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খুলনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত হরিভদ্রা নদী খননেও মিলছে না সুফল: ডুমুরিয়ায় পলি অপসারণের দাবিতে ইউএনও-র কাছে গণআবেদন র‍্যাব-৬,যশোর শার্শায় পৃথক ২ অভিযানে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ফুলবাড়ীতে ছিনতাইয়কারীর ছুরির আঘাতে চালক নিহত;গাড়িসহ ঘাতক ছিনতাইকারী আটক ১ “বাংলাদেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় যে মসজিদ থেকে”

কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ: প্রত্যেক কোরবানির ক্রেতার জানা উচিত

বাংলার চেতনা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৩৮ বার পঠিত

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা

ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, খুলনা ডুমুরিয়াসহ সারাদেশের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। এই মৌসুমী উচ্চ চাহিদার সুযোগ নিয়ে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক আর্থিক লাভের জন্য কোরবানির পশুদের কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই অনৈতিক কার্যকলাপ পশুর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ভোক্তাদের জন্যও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এই বিষয়ে নির্দেশনা দিতে গিয়ে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে ক্রেতারা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো চিনতে পারবেন। তার মতে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর প্রায়শই নাক শুষ্ক থাকে, শরীর ফোলা ও থলথলে হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এই প্রাণীগুলো অল্প দূরত্ব হাঁটার পরেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সাধারণত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।এদের প্রায়শই দুর্বল, নিস্তেজ দেখায় এবং এমনকি ঠিকমতো দাঁড়াতেও কষ্ট হতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের গবাদি পশু স্পর্শ করলে শারীরিক প্রতিক্রিয়া কমে যায়। আঙুল দিয়ে তাদের শরীরে চাপ দিলে চামড়া দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না এসে কিছুক্ষণ দেবে যায়। উরুর পেশীগুলোও অস্বাভাবিক নরম অনুভূত হয়, এবং তাদের হাড় তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ায়।বিশেষজ্ঞ আরও উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গবাদি পশুর সাধারণত ক্ষুধা কম থাকে এবং জাবর কাটা অনিয়মিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে পারে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার পর তারা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং একবার বসলে প্রায়শই উঠতে দ্বিধা করে।সুস্থ গবাদি পশুর লক্ষণ ব্যাখ্যা করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির বলেন, একটি সুস্থ গরুর সাধারণত নাক ভেজা থাকে, চোখ উজ্জ্বল হয় এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়। সুস্থ গবাদি পশু স্বাভাবিকভাবেই সক্রিয় থাকে, খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং নিয়মিত জাবর কাটে। তাদের চামড়াও টানটান ও চকচকে দেখায়।তিনি আরও বলেন যে, যদি প্রাণীটির শরীরে চাপ প্রয়োগ করলে তা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে এটি সাধারণত স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজাকরণের লক্ষণ। তবে, চাপ দেওয়া স্থানটি যদি দেবে যায়, তবে তা অস্বাভাবিক পানির উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে। আমরা খামারীদের খাদ্য ও সঠিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেছি এবং সে অনুযায়ী তারা কোরবানির পশু উৎপাদন করেছেন।কৃষকদের উদ্দেশে ডুমুরিয়া উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ আবু সাঈদ সুমন বলেন,অনেক গবাদি পশুপালক অযোগ্য চিকিৎসক বা হাতুড়েদের পরামর্শে ডেক্সামেথাসোন এবং প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। এই ধরনের ওষুধ পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয় এবং যকৃত ও কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, পশুর আকস্মিক মৃত্যুও হতে পারে।সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গবাদি পশুকে স্বাভাবিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে মোটাতাজা করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে দুই থেকে চার বছর বয়সী সুস্থ গবাদি পশু নির্বাচন, নিয়মিত কৃমিমুক্তকরণ, সুষম খাদ্য সরবরাহ, ভিটামিন ও খনিজ সম্পূরক প্রদান এবং খামারের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা।সঠিক যত্ন নিলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গবাদি পশুকে স্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করা সম্ভব। তিনি ক্রেতাদের কোরবানির পশু নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং শুধুমাত্র আকার দেখে বিচার না করে পশুর আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, নাকের অবস্থা এবং চলাফেরার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা পশুচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার জন্যও তিনি উৎসাহিত করেছেন।ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার জানান, ডুমুরিয়ার তিনটি বড় গরুর হাটের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তিনটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করেছেন যারা হাটগুলোতে নিয়োজিত থাকবে। কোনো পশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা তাৎক্ষণিক তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।ভ্রাম্যমাণ আদালত: ক্ষতিকর ঔষধ বিক্রি বা ব্যবহার রোধে নিয়মিত বাজার ও খামার মনিটরিং করা হচ্ছে। পশুর হাটে কোনো প্রকার অনিয়ম প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”আমরা চাই ডুমুরিয়াবাসী নিরাপদ ও সুস্থ পশু কোরবানি দিক। ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা হুজুগে বা শুধুমাত্র আকৃতি দেখে পশু না কিনে এর সুস্থতা যাচাই করুন। কোনো পশু অসুস্থ মনে হলে হাটে দায়িত্বরত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানান। আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর কোরবানির পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলার চেতনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park