
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বছরের পর বছর টাকা জমিয়েছিলেন শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘এস এফ ট্রাভেলস’-এর চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে। হজে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ভুক্তভোগীদের ঘোরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রতারিত হজ যাত্রীরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এস এফ ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা ফারুক হাসান হজে পাঠানোর নাম করে জনপ্রতি লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু যথাসময়ে ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা না করায় অনেকেই হজে যেতে পারেননি। এরপর টাকা ফেরত চাইতে গেলে শুরু হয় নতুন টালবাহানা। আজ দেব, কাল দেব বলে সময় পার করা হচ্ছে। মাসের পর মাস ধরে এই আশ্বাসের বৃত্তে বন্দি হয়ে আছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই ধার-দেনা করে কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছিলেন, যা এখন ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।এই গুরুতর জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের বক্তব্য এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধমূলক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন:”এস এফ ট্রাভেলস এবং এর চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে হজ যাত্রীদের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কোনো এজেন্সিকে এভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ ও অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধার এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।”ধর্ম মন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মাননীয় ধর্ম মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন:”হজ যাত্রীদের নিয়ে যেকোনো ধরনের প্রতারণা বা টালবাহানার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। হাফেজ মাওলানা ফারুক হাসান কিংবা এস এফ ট্রাভেলস যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। হজ যাত্রীদের টাকা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। যদি তারা সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত টাকা ফেরত না দেয়, তবে উক্ত এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ফৌজদারি আইনে গ্রেফতারসহ সমস্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা দ্বিধা করব না।”ভুক্তভোগীদের আহাজারি
এদিকে দিনের পর দিন এস এফ ট্রাভেলসের কার্যালয়ে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতারিত এক হজ যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আল্লাহর ঘর জিয়ারত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাওলানা ফারুক হাসান আমাদের সেই স্বপ্ন তো ভেঙেছেনই, এখন আমাদের হন্যে হয়ে ঘোরানো হচ্ছে। আমরা আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”ধর্ম মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুতই একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা হবে এবং প্রতারিত হজ যাত্রীদের পাশে দাঁড়াবে সরকার।।