
আবিদ আজাদ দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদূউল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবেহ করা ও মাংশ প্রস্তুততিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা।
দিঘলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও হাটে-বাজারে কামার শিল্পীরা পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, চাপাতি, ছুরি ও বঁটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সকল হাতিয়ারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার পানিগাতী গ্রামের বাঁশেরহাট বটতলা মোড়ের কামারশিল্পী গৌতম কুমার লোহা ও পিতলের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি ও কোরবানির সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় বাজারে তার তৈরি ধারালো ও টেকসই সরঞ্জামের বেশ চাহিদা রয়েছে।
গৌতম কুমার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরেই অর্ডারের চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কোরবানির জন্য ছুরি ও চাপাতি তৈরি করতে আসছেন। পুরোনো সরঞ্জামেও ধার দেওয়া ও মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে।
সূত্র আরও জানাযায়, কামার পল্লীতে আগের মতো কাজ না থাকায় অনেকে তাদের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে পেরেক, পাতামের কাজ করে জীবন যাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহ করছেন। এলাকায় কাঁচাপাট শিল্পের বিদায়ের সাথে তাদেরও শিল্পেরও ভগ্নদশা শুরু হয়েছে। পাট ব্যবসা দিঘলিয়া উপজেলা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকেরাও বেকার হয়ে পড়েছে। তাই আর এ এলাকায় কামারের ঘরে আর চাপাতি ও ছুরি তৈরি ও ধার দেওয়ার কাজ চলছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।
স্থানীয়রা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগেও গ্রামীণ কামারশিল্পের ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ এলেই কামারপল্লী আবারও প্রাণ ফিরে পায়।।