
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া গ্রামে আটলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ‘নকশা পরিবর্তন করে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চলছে’—এমন অভিযোগ। তবে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, এই অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের যেদিক দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণের কথা ছিল, ঠিক সেই লাইনে রয়েছে গ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ পাইপলাইন। বাউন্ডারি সোজা করে তোলা হলে পাইপলাইনের ওপর সরাসরি চাপ পড়ত এবং যেকোনো মুহূর্তে পাইপ ফেটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো। জনস্বার্থ রক্ষার্থে গ্রামবাসী, শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন ওয়ালটিকে সামান্য বক্র করে তোলা হবে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে আটলিয়া গ্রামের পুরোনো বাজার, যা কয়েক গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নকশা অনুযায়ী বাউন্ডারি সোজা করলে বাজারের একটি অংশ ভেঙে যেত। এতে জনজীবন ও বাজারের অস্তিত্ব দুটোই ঝুঁকিতে পড়ত। তাই জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য ওয়াল সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবু হাফিজ বলেন,“আমরা স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাইপলাইন এবং বাজার—উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাউন্ডারি সোজা করলে ক্ষতি হতো। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সামান্য পরিবর্তন করেছি, এবং শুধুমাত্র স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এটি করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসী যদি কোনো ধরনের সমস্যা অনুভব করে, তবে আমরা তা সমাধান করার জন্য প্রস্তুত। এখানে কোনো ধরনের অবৈধ ভূমি দখলের উদ্দেশ্য নেই। আমাদের কাজ ছিল শুধুই সবার নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।”
তৌহিদুল শিকদার বলেন, “সংবাদমাধ্যমে যে অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউ কোনোভাবেই সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করেনি। আটলিয়া গ্রামের পানি সরবরাহের পাইপলাইন এবং গ্রামের পুরোনো বাজার—উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে জড়িত। পাইপলাইন বা বাজারে কোনো ধরনের ক্ষতি যেন না হয়, সেই বিষয়টি আমাদের প্রথমিক লক্ষ্য ছিল। এজন্য আমরা গ্রামবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পরামর্শ করে গাইড ওয়াল সামান্য বাঁকা করার সিদ্ধান্ত নিই।

এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ জনস্বার্থে করা হয়েছে। আমরা চাইনি, বাউন্ডারি সোজা করার ফলে পাইপ ফেটে যাক বা বাজারের কোনো অংশ ধ্বংস হোক। প্রকৌশলীও উপস্থিত ছিলেন এবং সকলের সম্মতিক্রমে কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এখানে কোনোরকম অবৈধ দখল বা স্বার্থচিন্তা নেই। আমরা আশা করি সংবাদমাধ্যমে যে ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা গ্রামের মানুষ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান বোঝাতে সাহায্য করবে। এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ এলাকার শান্তি ও স্কুলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—নকশা পরিবর্তন করে জমি দখলের যে অভিযোগটি প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। আমরা গর্বিত যে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানটি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার দ্রুত বন্ধ করা হোক। তারা বলেন আমরা সবাইকে একসাথে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য এক— এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা, বিদ্যালয় ও বাজারের রক্ষা, এবং সকলের স্বার্থ সংরক্ষণ। আমরা চাই সকলেই এ বিষয়টি বুঝে এগিয়ে আসুন।”