
খুলনা ব্যুরো প্রধান।
খুলনার দাকোপ উপজেলার ৭ নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম কামিনী বসিয়া গ্রামে বিচার–সালিশকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের এক নেতা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে আলোচনার সময় তুচ্ছ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে তারা এ হামলা চালায়।অভিযুক্তরাহলেন ১. মফিজুল ফকির পিতা:হবি ফকির পদবী: যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক,৭ নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন, ৫ নং ওয়ার্ড ২:মোস্তফা কামাল পিতা: রুহুল আমিন ফকির
ঠিকানা: পশ্চিম কামিনী বসিয়া, ৫ নং ওয়ার্ড, দাকোপ থানা।ভুক্তভোগীরা হলেন শচীন্দ্রনা সরদার পিতা: সুবল সরদার পশ্চিম কামিনী বসিয়া, ৫ নং ওয়ার্ড, তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন,প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, পশ্চিম কামিনী বসিয়ার ৫ নং ওয়ার্ডের স্কুলসংলগ্ন পুরানো ব্রিজের পাশে একটি চায়ের দোকানে গ্রামের কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় দোকানদার মো. রাজ্জাক শেখ স্থানীয় কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন—গ্রামে বিচার–সালিশ করতে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে, তারা নাকি টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সালিশের কাজ করছেন।
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ভুক্তভোগী শচীন্দ্রনাথ সরদার বলেন—
দোকানদার ভুল কিছু বলেননি। মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এমনকি শুনেছি বিচার–সালিশের নামে বিএনপির দলীয় নাম ভাঙিয়ে কাজ করছেন।ভুক্তভোগী আরও বলেন—স্থানীয় সরকারই বিচার–সালিশ করবে, ব্যক্তিরা নয়।এই কথা শোনার পর অভিযুক্ত মাফিজুল ফকির উত্তেজিত হয়ে শচীন্দ্রনাথ সরদারের জামার কলার চেপে ধরেন এবং তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন—যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে ঘটে যায়।স্থানীয় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, তারা সংখ্যালঘু হওয়ায় এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেছেন,কিছু ব্যক্তি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে। অথচ এরা অতীতে বা বর্তমানেও বিভিন্ন সময়ে অন্য রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই কার ছত্রছায়ায় তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।এ ঘটনাসহ এলাকায় যারা রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে বিচার–সালিশের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করা হোক।কারা তাদের ইন্ধন দিচ্ছে এবং কার সুরক্ষায় তারা এসব কাজ করছে—তা প্রকাশ করা হোক।এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নির্মূল করা হোক।।