
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) :
বৃহস্পতিবার ২৩জুলাই২০২৬
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার—দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২০ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনার ডুমুরিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বাপ্পী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন:”পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাঁচ বছরে ২০ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রা কেবল একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার। প্রতিটি চারাগাছ রোপণের পাশাপাশি তার সঠিক পরিচর্যা ও সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তব্য প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেক চেয়ারম্যান এবং মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক মতপার্থক্য থেকে ঊর্ধ্বে। খুলনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তাই সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম কবির, শেখ আব্দুর রশিদ, আশরাফুল আলম নান্নু সহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার গণ্যমান্য সুধীজন।বক্তারা ডুমুরিয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খাস জমিতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি মো. মনিরুল ইসলাম বাপ্পী ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মারক হিসেবে একটি বৃক্ষ চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী, প্রতিনিধি ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।