1. admin@banglarchetona.com : admin :
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফুলবাড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নবগঠিত সমবায় সমিতির নিবন্ধন সনদ প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খুলনায় বিদেশি পি”স্তলসহ গ্রে”ফতার ১ ফুলবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাদের হস্তশিল্পের পণ্য ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা ডুমুরিয়ায় জেলা পরিষদের বৃক্ষচারা বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম দিঘলিয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ব্যতিক্রমী বিদায়: আবেগঘন আয়োজনে সম্মানিত হলেন প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম সাতক্ষীরা থেকে ২৩০ বোতল উইনকেরেক্স ১৫ হাজার পিচ ট্যাবলেট ও নিষিদ্ধ ঔষধসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের শিল্পী-কলাকুশলীদের সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভা ডুমুরিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন ডুমুরিয়ায় চড়া মাছের দাম, সবজি ও মাংসে স্বস্তি

দিঘলিয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ব্যতিক্রমী বিদায়: আবেগঘন আয়োজনে সম্মানিত হলেন প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম

বাংলার চেতনা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

আবিদ আজাদ দিঘলিয়া প্রতিনিধি:
দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনিমহল গ্রামের ১১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে গেছেন। প্রধান শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) বেলা ১২টায় বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাঁকে ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে সংবর্ধনা ও বিদায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং ভালোবাসায় সিক্ত বিদায় আয়োজনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো সম্মান জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মোঃ নুরুল ইসলাম বিদ্যালয়টিকে একটি সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। তাঁর হাত ধরে শিক্ষা গ্রহণ করা অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেন।বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেকেন্দার আলী, সহ-সভাপতি শেখ মোঃ ইসরাফিল হোসাইন, সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুয়াইব ইসলাম রানা, এপেক্স মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুদ্দিন লস্কর, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা সাহানাজ সুলতান তানিয়া, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা গীতা রানী, ১২ নম্বর চন্দনীমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুদ সরদার, পথের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মধুসূদন ও মোঃ শামসুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অনুপ ভৌমিক ও আসাদুজ্জামান তুহিন, সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মল্লিক আজিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ জাহিদুজ্জামান, সাঃ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম, সহ সম্পাদক আবিদ আজাদ, সাংবাদিক আহাদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ মহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন বেনজীর আহমেদ মুকুল।আয়োজক কমিটিতে ছিলেন সাকিল লস্কর, সাব্বির লস্কর, রাজু, মামুন, তারেখ, তুষার, ফরিদ, মাহিসহ আরও অনেকে। তাঁদের সার্বিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় বিদায় অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
বিদায়ী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা। দীর্ঘ কর্মজীবনে আমি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বাস্তব জীবনের শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব, কর্তব্য ও সততার সঙ্গে কাজ করাকেই সবসময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এ কারণেই পদোন্নতির সুযোগ পেলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। প্রিয় এই বিদ্যালয় এবং আমার শিক্ষার্থীদের ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে মন সায় দেয়নি।”তিনি আরও বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্বের বিষয় হলো, আমার হাতে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তাদের সাফল্যই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমার কাছে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সন্তানের মতো। তাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”সবশেষে তিনি বলেন, “কর্মজীবনের শেষ দিনে আমার একটি বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যাহ্নভোজ করাতে পেরেছি। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর হতে পারে না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন জীবনের বাকি সময়ও সুস্থ থেকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারি।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো প্রকৃত অর্থে অবসর নেন না; তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মধ্য দিয়েই আজীবন বেঁচে থাকেন। মোঃ নুরুল ইসলামের সততা, নিষ্ঠা, কর্মপ্রেম ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। বিদায়ের ক্ষণে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী সম্মাননা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলার চেতনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park