স্টাফ রিপোর্টার :
পাবনার সাঁতিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে সৌদি প্রবাসী মোঃ আজমল হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (২৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও রহস্য। একদিকে থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে গৃহবধূ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি, অন্যদিকে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে উঠে এসেছে পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১১/০৫/২০২৬ ইং তারিখ সোমবার আনুমানিক দুপুরের পর থেকে ফাতেমা খাতুন নিখোঁজ হন। তিনি পাবনা জেলার সাঁতিয়া থানার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ লুৎফর এবং স্বামীর নাম মোঃ আজমল হোসেন।
এ ঘটনায় আজমল হোসেনের বাবা মোঃ ইসলাম শেখ সাঁতিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফাতেমা খাতুন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। তবে অভিযোগপত্রে কোথাও পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে।
সাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অভিযোগ হয়েছে অভিযোগের তদন্ত চলছে।
কিন্তু সৌদি প্রবাসী স্বামী মোঃ আজমল হোসেনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ঝিনাইদহ সদর থানার চাপরী এলাকার মিল্টন নামের এক ব্যক্তির সাথে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখতেন। তার অভিযোগ, প্রায় ২ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ, আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্ত্রীর নামে ক্রয় করে দেওয়া প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের জমির কাগজপত্র নিয়ে ফাতেমা খাতুন ওই ব্যক্তির সাথে পালিয়ে গেছেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ফাতেমা খাতুন তার ১০ বছরের মেয়ে জামিলাকে রেখে চলে গেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে।
আজমল হোসেনের ভাই মোঃ ইকবাল হোসেন জসিম শেখ ও একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ফাতেমা খাতুন মিল্টনের সাথে পালিয়ে গেছেন এবং ঘটনার দিন থেকেই মিল্টনের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ফাতেমা খাতুনের ভাই আজমলও নাকি একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে পরিবারের দাবী,
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি পরিবারের সবাই জানেন যে ফাতেমা খাতুন নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির সাথে পালিয়ে গেছেন, তাহলে থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে কেন শুধুমাত্র “নিখোঁজ” উল্লেখ করা হলো? অভিযোগপত্র ও পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে এমন অসামঞ্জস্য কেন? এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হয় এবং বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.