মোঃ সাব্বির হোসেন বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান খুলনা
জামালপুর জজকোর্টের দায়রা সহকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে এক আইনজীবী সহকারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর জজকোর্টের দায়রা সহকারী (সেরেস্তাদার) মোঃ কামরুল হাসান আবিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুর রহিম (৪৭) জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগকারী মোঃ আব্দুর রহিম জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার হাতিজা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে জামালপুর জজকোর্টে আইনজীবী সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কামরুল হাসান আবিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বিশ্বাসের সম্পর্ক ছিল।ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কামরুল হাসান আবিদ তাকে জানান যে, তার সহোদর ভাই দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং মাঝেমধ্যে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। সেই সুবাদে অভিযুক্ত তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। বিশ্বাস স্থাপন করে আব্দুর রহিম ৬ লাখ টাকার চুক্তিতে সম্মত হন।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে ধাপে ধাপে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের হাতে মোট ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ছয় মাসের মধ্যে তার ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।ভুক্তভোগী জানান, বারবার তাগিদ দেওয়ার পর অভিযুক্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে থাকেন। গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সামনে অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা হলে টাকা ফেরত ও ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কথা বললে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা চাওয়ার বিষয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত টাকা গ্রহণের বিষয় অস্বীকার করায় ভুক্তভোগী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অসুস্থতার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে আইন অঙ্গনে ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.