মোঃ আশরাফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার।
রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় হত্যা মামলায় রহস্য উদঘাটন করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা পুলিশ ।

রংপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন এর দিকনির্দেশনায় ও নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম ১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪ টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তারাগঞ্জ থানার মামলা নং-০২/১৫২, তারিখ-০৭/১২/২০২৫খ্রি , ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড মূলে তদন্তেপ্রাপ্ত অভিযুক্ত তারাগঞ্জের শেরমস্ত গ্রামের মোঃ রুহুল আমিন ও মেরিনা বেগম এর ছেলে মোঃ মোরসালিন ইসলাম (১৯),-রংপুর'কে তার নিজ বসতবাড়ী হতে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত তারাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে লেখাপড়া করার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রি/টাইলস মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেতেন। গত ০১/১২/২০২৫খ্রি. হইতে ০৩/১২/২০২৫খ্রি. তারিখ পর্যন্ত সূত্রে বর্ণিত মামলার ডিসিস্ট যোগেশ চন্দ্র রায় (৮০) এর বাড়ীতে টাইল্স মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে। কাজ করাকালে উক্ত আসামী জানতে পারে ঐ বাড়ীতে যোগেশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী ছাড়া কেউ থাকেন না। তার বাসায় অনেক টাকা, স্বর্ণালঙ্কার থাকতে পারে। আসামী দরিদ্র এবং তার ব্যক্তিগত কিছু দেনা থাকায় সে তাদেরকে হত্যা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পরিকল্পনা করে।পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দিন ৬ ডিসেম্বর রাত্রি অনুমান ১০ ঘটিকার সময় আসামী একটি ধারালো কুড়াল নিয়া ডিসিস্ট যোগেশ চন্দ্র রায় এর বাড়ীর পশ্চিম দিকে আঙ্গিনায় থাকা কাঁঠাল গাছ বেয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করে প্রথমে ডিসিস্ট সুবর্ণা রানী (৭০) কে তাদের বসতবাড়ির রান্না ঘরে দেখতে পেয়ে তার হাতে থাকা কুড়াল দিয়া মাথায় উপর্যুপরি কোপ মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর ডিসিস্ট যোগেশ চন্দ্র রায়কে ডাইনিং রুমে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় একই কুড়াল দিয়া মাথায় উপর্যুপরি কোপ মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ডিসিস্ট যোগেশ চন্দ্র রায় এর শয়ন ঘরের টেবিলের নিচে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা স্টিলের আলমারীর লক ভাঙ্গে টাকা-পয়সা, সোনাদানা খোঁজ করে। কিন্তু কোন কিছু না পেয়ে ছোরাটি ঘরের মেঝেতে রাখে, একই পথে বাড়ীর বাহির হয়ে বাড়ির পিছনে থাকা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি জনৈক পরেশ চন্দ্র এর কুচুরীপানাযুক্ত পুকুরে ফেলে এবং ঘটনাস্থল হতে চলে যায়।পরবর্তীতে জেলা পুলিশ, রংপুরের তারাগঞ্জ থানা সহ কয়েকটি ইউনিট একযোগে কাজ করে রহস্য উদঘাটন করে, উপরোক্ত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামীকে সনাক্ত পূর্বক ১২ ডিসেম্বর ভোর অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকায় তার নিজ বসতবাড়ী হতে গ্রেফতার করে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ডিসিস্ট যোগেশ চন্দ্র রায় এর শয়ন কক্ষে স্টিলের আলমারীর লক ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত ছোরাটি ইং ১২/১২/২০২৫ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকার সময় উদ্ধার করা হয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কুড়ালের হাতলটি বর্ণিত পুকুরে কচুরীপানার ভিতর হতে অদ্য ইং ১২/১২/২০২৫ তারিখ সকাল ১০:৫০ ঘটিকার সময় উদ্ধার করা হয়। পুকুরের পানিতে কুড়ালের লোহার অংশটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।প্রেস ব্রিফিং এ রংপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন বলেন,রংপুর জেলায় কোন অপরাধী অপরাধ করে কোন কৌশলেই রেহাই পাবে না, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, শাস্তি ভোগ করতে হবে।অতঃপর মামলার ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে পুলিশ স্কটসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.