আবিদ আজাদ দিঘলিয়া প্রতিনিধি:
দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজারে এখনও টিকে আছে পুরনো সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন স্থানীয় কারিগররা। তাদের মধ্যে অন্যতম শুভঙ্কর দাস (৫৫) সেনহাটি ইউনিয়নের পথের বাজার ঋষি পাড়ার বাসিন্দা। শুভঙ্কর দাস এ প্রতিবেদককে জানান, বাপ-দাদার সূত্র ধরে আজও তারা এই বাঁশশিল্পকে আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা গৌউড়শর দাসও (৬৫) দীর্ঘদিন ধরে বাঁশশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এই শিল্প শুধু আমাদের জীবিকার উৎস নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখানকার কারিগররা বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মুরগির খাঁচা, কাঁচা আরত থেকে মালামাল বহনের ঝুড়ি, খেজুর গাছে ওঠার সময় যন্ত্রপাতি রাখার ঝুড়ি, মাছ বহনের ডুলা, পাখির খাঁচাসহ কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা উপকরণ তৈরি করছেন। স্থানীয়ভাবে এসব পণ্যের চাহিদা থাকলেও আগের তুলনায় ব্যবসা অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বাঁশশিল্পীরা জানান, সম্প্রতি বাঁশের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কম দামে পণ্য বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ক্রেতাদের উপরেও।
কারিগরদের মতে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও আধুনিক প্লাস্টিকজাত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে শতবর্ষী এই বাঁশশিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তারা সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রাচীন এ শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.