শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাঁশ চাষের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা যাচাই করতে এক মাঠ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের সফল বাঁশ চাষী শেখ আমজাদ হোসেন ও শেখ সিরাজুল ইসলামের টিপনা মৌজায় অবস্থিত বাঁশ ঝাড় ও বাগান পরিদর্শন করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা।
পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) আলী হাসান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন এবং স্থানীয় বাঁশ চাষী শেখ জিন্নাত আলী।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং চাষীরা বাঁশ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
কর্মকর্তাদের বিস্তারিত সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন:
"বাঁশ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। টিপনা গ্রামের শেখ আমজাদ হোসেন ও শেখ সিরাজুল ইসলামের বাঁশ বাগানটি ঘুরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া বাঁশ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে গৃহনির্মাণ, কুটির শিল্প এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে বাঁশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় চাষীদের বাঁশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাঁশঝাড়ের সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি। এটি অল্প খরচে একটি অত্যন্ত লাভজনক খাত হতে পারে।"
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) আলী হাসান বলেন:
"বাঁশ চাষে সাধারণত খুব বেশি কীটনাশক বা সারের প্রয়োজন হয় না, তবে সঠিক সময়ে বাঁশঝাড়ের গোড়া পরিষ্কার করা এবং বাঁশের কঞ্চি ছাঁটাই করা প্রয়োজন। টিপনা মৌজার এই বাগানটিতে বাঁশের বৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাঁশের পাতামোড়ানো বা গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে, যা আমরা নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করছি। সঠিক নিয়মে বাঁশ কাটলে এবং ঝাড়ের যত্ন নিলে দীর্ঘদিন এখান থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।"
চাষীর প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা
বাঁশ চাষী শেখ জিন্নাত আলী বলেন:
"আমাদের এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবেই বাঁশের একটা ভালো চাহিদা রয়েছে। শেখ আমজাদ ও সিরাজুল ভাইয়ের এই উদ্যোগ দেখে আমরাও বাঁশ চাষে আরও উৎসাহিত হচ্ছি। বাঁশ চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার ঝাড় তৈরি হয়ে গেলে প্রতি বছরই সেখান থেকে বাঁশ বিক্রি করা যায়। তবে সরকারিভাবে যদি আমাদের উন্নত জাতের বাঁশের চারা এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে ডুমুরিয়ার অনেক পতিত জমিতে বাঁশ চাষ করে কৃষকরা ভাগ্যবদল করতে পারবেন।"
পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাগান মালিকদের বাঁশঝাড়ের আরও উন্নত পরিচর্যা করার জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন এবং এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও বাড়ির আশেপাশের পতিত জমিতে বাঁশ চাষ করার আহ্বান জানান।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.