মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা থেকে,
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খরাস্রত শৈলমারী নদী এখন ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। উজানের পানির চাপ না থাকায় পলি জমে এক সময়ের খরস্রোতা এ নদী বর্তমানে এমন অবস্থায় হয়েছে । অপর দিকে একের পর এক নদীর চর দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে নদীর প্রশস্ততা। ফলে বর্ষায় পানির চাপে প্লাবিত হচ্ছে দুই পারের লোকালয়।
দুর্ভোগ বাড়ছে দুই কূলের হাজারো মানুষের।
জানা যায়, উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈলমারী নদী ডুমুরিয়া উপজেলায় গিয়ে মিশেছে । বটিয়াঘাটা থেকে একটু পশ্চিম দিক এগোলে শৈলমারী খেয়াঘাট। শৈলমারী নদীর মুখে রয়েছে ১০ ভেন্টের (কপাট) স্লুইস গেট। এরপর নদী পারে বাঁধ দিয়ে দুই নদীর সম্মিলন স্থানে রয়েছে একটি ইটখোলা। এটি তৈরি করেছিলেন সাবেক আ’লীগ এমপি শেখ নূরুল হক। এখন তার উত্তরাধিকাররা এটার মালিক।শৈলমারী নদীর মুখে ১০ ভেন্টের (কপাট) স্লুইস গেটে রয়েছে একটি সাইন বোর্ড। তাতে লেখা ব্যক্তি মালিকানাধীন এই জমিতে স্লুইস গেট তৈরি করেছে পাউবো। এখানে সঠিক সময় পানি সরবরাহসহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বটিয়াঘাটার নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত করে শৈলমারী নদীর খাস জমিতে অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে জেলা প্রশাসক খুলনার কার্যালয়ের অভিযোগ শাখায় ৩টি ইটভাটার নাম উল্লেখ্য করে প্রতিবেদন জমা দেন।
এ ছাড়া নদীর দুই পাশে জেগে উঠা চর এক শ্রেণির ভূমিদস্যুসহ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে। এই নদীতে এক সময় ছিল প্রবল স্রোত। নদীর দুই পারের শত শত বিঘা জমি ও বসতির পানি গিয়ে পড়ত এই নদীতে। শত শত বিঘা জমির চাষাবাদ হতো এই নদীর ওপর নির্ভর করে। তবে এখন উজানের পানি না পাওয়ায় জোয়ারের পানিতে বিপুল পলি জমেছে এই নদীর বুকে।ফলে এ নদীর বেশির ভাগ অংশ ভাটার সময় পানি শুকিয়ে যায়। তখন শৈলমারীর খেয়াঘাট অচল হয়ে পড়ে। মানুষ হেঁটে নদী পার হয়। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮-১০ বছর ধরে আস্তে আস্তে এই নদীর মৃত্যু ঘটেছে। একসময় এই নদীর প্রবল স্রোতের কারণে নৌকা চালানো কঠিন ছিল। অথচ এখন ভাটার সময় পানি এত কমে যায় যে,নৌকা চালানোর উপায় থাকে না।
সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়জুড়ে বিশাল চর। জোয়ার এলে ডুবে যায়,জোয়ার শেষে ফের ভেসে ওঠে। উপকূলীয় নদীগুলো প্রাকৃতিক ভাবে জোয়ারের নিয়ন্ত্রণাধীন। উজানের পানিই এসব নদীর ভারসাম্য তৈরি করে। কিন্তু নদী ব্যবস্থাপনার নামে অপরিকল্পিত বাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণ, ইটভাটা গড়ে তোলা নদী দখল ইত্যাদি কারণে মারা যাচ্ছে নদী। যাহা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।কর্তৃপক্ষের কাছে উপজেলা বাসীর দাবি, নদীটি খনন করে তার স্বাভাবিক চলাচলের পথ ফিরিয়ে দেওয়াসহ সব অবৈধ দখলদারকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার। এক সময় এই নদীতে ফেরি চলাচল করতো। তখন দক্ষিণ এলাকার মানুষ শহরের সঙ্গে যোগাযোগ এর একমাত্র মাধ্যম ছিলো ফেরি পারাপার। একালাবাসী খরস্রোতা শৈলমারি নদী খননের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায় সরকারি শোলমারী নদী বাধ দিয়ে গড়ে তুলেছে বিশাল ইটভাটা।তিনি বলেন,সরকারি জমি থাকলে জমি মেপে বের করে নিয়ে যাক। আমি লীজ নিয়ে দখলে আছি। এ বিষয় বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, শৈলমারি নদী পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানান,টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো তাড়াতাড়ি খনন কাজ শুরু হবে।খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন -১ এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন এটা ডিভিশন- ২ এর অন্তর্ভুক্ত। অন্য দিকে ডিভিশন -২ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন। এটা ডিভিশন -১ এর অন্তর্ভুক্ত। দুই ডিভিশনের রঁশি টানাটানির কারণে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.