খুলনা জেলা প্রতিনিধি,
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক এস.এম. শামীমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে খুলনা জেলার সর্বস্তরের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দৈনিক অনির্বাণ পত্রিকার দিঘলিয়া প্রতিনিধি ও “খুলনার খবর”-এর বার্তা সম্পাদক এস.এম. শামীম তার সহযোগী রানা মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দিঘলিয়া উপজেলার চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছালে মোটরচালিত ভ্যান নিয়ে অবস্থান করা উজ্জ্বল মোড়লের ছেলে উথান মোড়ল, যিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ পেছন দিক থেকে রানা মোল্লার টি-শার্ট ধরে টান দেন।
এ সময় রানা মোল্লার সঙ্গে উথান মোড়লের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উথান মোড়ল সাংবাদিক শামীমের সামনে এসে মোটরসাইকেল না থামানোর কারণ জানতে চেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তিনি শামীমের ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এ সময় উথানের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত আরেক যুবক পেছন দিক থেকে শামীমকে চেপে ধরে রাখে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে উথান মোড়ল তার হাতে থাকা পাথর বা লোহার মতো কোনো বস্তু দিয়ে শামীমের মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ঘটনার সময় শামীমের সঙ্গে থাকা সহযোগী রানা মোল্লার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত উথান মোড়ল ও রানা মোল্লা আত্মীয় (মামাতো-ফুফাতো ভাই) হওয়ায় তিনি নিরব ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত উথান মোড়ল ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও জেলার সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সার্বিক বিষয় দিঘলিয়া থানার ওসি তদন্ত প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। খুব তাড়াতাড়ি বিবাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.