বাংলার চেতনার নিউজ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা
একই রাতে, একই শহর, দুই প্রান্তে রক্ত। গুলির শব্দ আর চাপাতির আঘাতে কেঁপে উঠল খুলনা মহানগরী। ২৮ জুন রবিবার রাত সাড়ে ৮টার পর সোনাডাঙ্গা আর হরিজন এলাকায় পৃথক দুই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের ঘুম উড়ে গেছে।
সোনাডাঙ্গা থানাধীন আইডিয়াল স্কুলের পাশে ঘটনাটি ঘটে। দুর্বৃত্তরা গুলি করে মানিক ৩২ নামে এক যুবককে। মুহূর্তের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে সে।
স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত মানিককে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল খুমেক-এ নিয়ে যান। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন। অবস্থা কেমন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ যুবককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
একই রাতে নগরীর হরিজন এলাকায় ঘটে আরেক নৃশংসতা। এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলার শিকার যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেও।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য, নাকি অন্য কিছু—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক রাতে গুলি + চাপাতি—দুই সহিংস ঘটনায় খুলনার মানুষ আতঙ্কিত। সোনাডাঙ্গার মতো ব্যস্ত এলাকায় গুলি, হরিজন এলাকায় কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।
এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “রাত ৮টা বাজতেই গুলি। দিনে-রাতে পার্থক্য থাকল না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে এখন।
ওসি রফিকুল ইসলাম আশ্বাস দিয়েছেন, “জড়িতদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। দুই ঘটনার মোটিভ বের করে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
খুলনা শান্তির শহর ছিল একসময়। আজ এক রাতেই দুই যুবকের রক্তে ভিজল নগরীর মাটি। গুলি আর চাপাতি হাতে নিয়ে যারা ঘুরে বেড়ায়, তাদের কাছে মানুষের জীবন কি এতই সস্তা?
প্রশাসনের কাছে দাবি—অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। নাহলে আগামী রাতে আরেক মানিকের রক্ত ঝরবে। খুলনার মানুষ শান্তিতে বাঁচতে চায়, আতঙ্কে না।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.