লেখক ঃফারহা আনজু মুন্নী
আজকের পদ্মা নদীর বাস দুর্ঘটনার পরে একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবাচ্ছে, আর সেটা হলো বাসের জানালার পাশে লাগানো স্টেইনলেস স্টিল (SS) পাইপ।
বাসের দুই পাশে যাত্রীদের সিটের পাশে যে জানালা থাকে, সেখানে সাধারণত রোদ আটকানোর জন্য পর্দা লাগানো হয়। কিন্তু সেই পর্দা আটকানোর জন্য পুরো জানালাজুড়ে মোটা এস এস পাইপ লাগানো থাকে—বাসের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত।
দেখতে হয়তো এটা খুব সাধারণ একটা জিনিস।
কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এই ছোট্ট জিনিসটাই মানুষের বাঁচার পথ বন্ধ করে দেয়।আজ যখন বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেল, তখন অনেক যাত্রী জানালা দিয়ে বের হয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জানালার পাশে এই লোহার পাইপ থাকার কারণে একজন মানুষের পুরো শরীর বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
ভাবুন তো পরিস্থিতিটা—
একটা বাস পানিতে ডুবে যাচ্ছে…
ভেতরে মানুষ বাঁচার জন্য হাহাকার করছে…
কেউ জানালা দিয়ে বের হতে চাইছে…
কিন্তু সেই জানালার সামনে একটা লোহার পাইপ তাদের পথ আটকে রেখেছে।
যে জানালা হওয়ার কথা ছিল জীবন বাঁচানোর রাস্তা,
সেই জানালাটাকেই আমরা নিজেরাই প্রায় বন্ধ করে রেখেছি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—
এই পাইপটা কেন?
শুধু একটা পর্দা ধরে রাখার জন্য!
অথচ পর্দা তো অন্যভাবেও লাগানো যায়—
ক্লিপ দিয়ে, গিঁট দিয়ে, বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতিতে।
কিন্তু একটা পর্দার জন্য যদি মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তাহলে এটা শুধু অবহেলা না—এটা এক ধরনের নিষ্ঠুরতা।আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং জোর দাবি জানাই—অবিলম্বে বাসের জানালার পাশ থেকে এই ধরনের এস এস পাইপ সরিয়ে ফেলা হোক।কারণ দুর্ঘটনার সময় মানুষের বাঁচার সবচেয়ে বড় পথই হলো জানালা।আর যদি সেই পথই বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের বাঁচার সুযোগটাই শেষ হয়ে যায়।
আমরা যেন আর এমন মর্মান্তিক দৃশ্য না দেখি।
হে আল্লাহ, যারা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জান্নাত নসিব করুন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন। 🤲তথ্য:এখন পর্যন্ত ২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটিতে মোট ৪৫ জন যাত্রী ছিল।।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.