নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বিএনপির উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় অধ্যাপক বিএম নাগিব হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। র্যালিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বিএম নাগিব হোসেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে গৌরবের দিন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। এই স্বাধীনতা কোনো দয়া নয়; এটি লাখো শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের ফল।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের মূল চেতনা ছিল শোষণমুক্ত সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আজও গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হতে হবে—একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”
অধ্যাপক বিএম নাগিব হোসেন বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার জন্য যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি সশ্রদ্ধ সালাম জানান।
সমাবেশে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে অহংকার, ত্যাগ ও বিজয়ের এক অনন্য স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নজরুল ইসলাম। খুলনা অফিসঃ ৬/১ পাবলা কেশবলাল রোড, দৌলতপুর, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭১৩৭০৮১৯
Copyright © 2026 বাংলার চেতনা. All rights reserved.